স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর জালিয়াতিকারী প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর জালিয়াতিকারী প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

স্টাফ রিপোর্টারঃ  নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবসার ক্ষতি ও সুনাম নষ্ট করার প্রতিকার এবং প্রতারক চক্রের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন প্রেস ব্যবসায়ী  গাইবান্ধার সদর উপজেলার খামার বোয়ালি গ্রামের আব্দুর হামিদের ছেলে ওবায়দুর রহমান ওয়াদুদ। মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং বিভিন্ন মহলের কাছে এ দাবি জানান। 
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওবায়দুর রহমান উল্লেখ করেন, গাইবান্ধা শহরের সার্কুলার রোড ২নং রেলগেট এলাকায় মা কালার প্রিন্টিং প্রেস নামে তার একটি প্রেস রয়েছে। তার প্রেসে স্বপন কুমার রায় গ্রাফিক্স ডিজাইনার, সুকান্ত বর্মন ম্যানেজার, আবুজার প্রামানিক মেশিন অপারেটর ও সামিউল ইসলাম বাইন্ডার হিসেবে চাকরি করতো। গত ২০১৯ সালের ২৭মে পূর্ব পরিচিত আবু সাঈদ সরকার তার ক্রয়কৃত শর্টকর্ড অফসেট প্রিন্টিং মেশিনটি মাসিক ৫ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে মৌখিকভাবে মা কালার প্রিন্টিং প্রেস থেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভাড়ার টাকা দিতে টালবাহানা করায় মেশিন ফেরত চাইলে আবু সাঈদ ভাড়ার টাকা দেয়ার জন্য দুইমাস সময় চায়। নির্ধারিত সময়ে ভাড়ার টাকা না দিয়ে উক্ত আবু সাঈদ প্রতারণামূলকভাবে সদর উপজেলার থানসিংহপুরের আব্দুল জলিলের কাছে মেশিনটি বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ও তার পিতা ২০২০ সালের ৩০ জুন আল মদিনা মার্কেটস্থ আব্দুল জলিলের দোকানে গিয়ে মেশিন শনাক্ত করেন। মেশিনটি নিয়ে আসতে চাইলে আব্দুল জলিল তাকে ও তার পিতাকে গালিগালাজ করে সন্ত্রাসীদের দিয়ে তাদের উপর হামলা চালায় এবং বেধড়ক মারপিট করে। 
এব্যাপারে থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের এসআই হাসান তাদের দু’পক্ষকে থানায় ডাকে। সে মোতাবেক ওই সালের ১৮ আগস্ট থানায় উপস্থিত হলে এসআই হাসান তাকে স্ট্যাম্পে মেশিন বিক্রির অঙ্গীকারনামা দেখিয়ে বলে তিনি আবু সাঈদের কাছে মেশিনটি বিক্রি করেছেন। এসময় তার প্রেসের কর্মচারি স্বপন ও সুকান্ত  ২০১৯ সালের অক্টোবরে ৩শ’ টাকার নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে অঙ্গীকারনামা দিয়েছে বলে সাক্ষ্য দেয়। তখন তিনি ওই অঙ্গীকারনামাটি হাতে নিয়ে দেখতে পায় তার স্বাক্ষর স্ক্যান করে ওই স্ট্যাম্পে বসানো হয়েছে। মূলত স্বপন কুমার রায়, সুকান্ত, আবুজার প্রামানিক, সামিউল ইসলামের প্রত্যক্ষ প্ররোচনা, মদদে ও ইন্ধনে স্বাক্ষর স্ক্যান করে মেশিন বিক্রয়ের জাল অঙ্গীকারনামা তৈরি করা হয়েছে। স্বপন কুমার রায়, আবুজার প্রামানিক ও সামিউল ইসলাম যৌথভাবে থ্রি স্টার নামে আল মদিনা মার্কেটে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে প্রেস ব্যবসা শুরু করেছে। এছাড়া তার দোকানের ম্যানেজার সুকান্ত তার ব্যবসার হিসাবপত্র না দিয়েই প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে অন্য প্রেসে চাকরি নেয়। 
এব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা করলে গ্রেফতার হওয়া আবু সাঈদ ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দিতে স্বীকার করে স্বপন, সুকান্ত, আবুজার ও সামিউলের সাথে যোগসাজসে তার স্বাক্ষর স্ক্যান করে স্ট্যাম্পে বসানো হয়েছে। এ বিষয়ে গাইবান্ধা থানার মামলা নং জিআর ৫৮৪/২০। বর্তমানে মামলাটি গাইবান্ধা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। অথচ অন্যায়ভাবে তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে ওবায়দুরের নামে নানা মিথ্যা ভিত্তিহীন বানোয়াট অপপ্রচার চালিয়ে তার ভাবমুর্তি নষ্ট করে তাকে হেয় করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে ওই ব্যক্তিরা।