ভালোবাসায় সিক্ত অজোঁপাড়ার তিন মেধাবী

ভালোবাসায় সিক্ত অজোঁপাড়ার তিন মেধাবী

ময়নুল ইসলাম : ২০২০—২০২১ শিক্ষাবর্ষে (এমবিবিএস) ১ম বর্ষের মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন লক্ষ্মীপুরের তিন কৃতি শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের পরিবারে চলছে আনন্দের বন্যা। বাদ নেই এলাকাবাসীও। 
গাইবান্ধা সদর উপজেলার একটি অনগ্রসর এলাকা লক্ষ্মীপুর। এবার এমন একটি এলাকা থেকে ২০২০—২০২১ শিক্ষাবর্ষে (এমবিবিএস) ১ম বর্ষে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে তিনজন কৃতী শিক্ষার্থী। এমন খবরে আনন্দে আত্মহারা তাদের পরিবারসহ লক্ষ্মীপুরবাসী। লক্ষিপুরের উজিরধরনীবাড়ি গ্রামের মরহুম মোহাম্মদ আলী খাঁন লিটন ও রেবেকা সুলতানার মেয়ে নুদরাত জাহান খাঁন তৃজি রংপুর মেডিকেল কলেজে  ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তৃজি এসএসসিতে গাইবান্ধা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে জি.পি.এ ৫ ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জি.পি.এ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। 
৭ম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে তার বাবা মারা যান। তার বাবার স্বপ্নছিলো সে বড় হয়ে ডাক্তার হবে। স্বপ্ন পূরণ হতে চললেও বাবা নেই। তৃজি জানায়, তার সফলতার পেছনে মায়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। এছাড়া স্কুল কলেজের শিক্ষকসহ নিকট আত্মীয়, বন্ধু বান্ধবদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় তৃজি। তৃজির মা রেবেকা সুলতানা বলেন, তৃজির বাবা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন। তৃজি যেন কৃতিত্বের সঙ্গে পাশ করে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে পারে। তার ছোট মেয়ে নুসরাত জাহান খাঁনও যেন মানুষের মতো মানুষ হতে পারে এ জন্য সকলের দোয়া কামনা করেছেন।
আরেক কৃতি শিক্ষার্থী লরিন সুলতানা ঐশী। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের লেংগাবাজারের কলেজ পাড়ায়। বাবা আব্দুল লতিফ সরকার ও মাতা আবেদা সুলতানা সুমি। দুজনই শিক্ষকতা করেন। লরিন এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে গাইবান্ধা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হয়ে রংপুর সরকারি কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি হয়। সেখানেও সে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পায় সে। 
লরিন জানায়, তার বাবা মার স্বপ্নছিলো আমি ডাক্তার হই। তাদের সে স্বপ্নপূরণের পথে রয়েছি। আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যে, সফলভাবে কৃতিত্বের সঙ্গে ডাক্তারি পড়া সম্পন্ন করে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারি। লরিনের বাবা—মা তার সন্তানের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের লেংগাবাজার কলেজ পাড়ার আব্দুস সালাম ও আনোয়ারা বেগমের ছেলে আশরাফুল ইসলাম লেংগাবাজার বিএস উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি, এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে রংপুর কারমাইকেল কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি হয়। সেখানে কৃতিত্বের সঙ্গে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।
সে ডাক্তারি পড়া শেষ করে দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চায়। তার বাবা মা তার সন্তানের জন্য এলাকাবাসীসহ সকলের দোয়া চেয়েছেন। আশরাফুল জানায়, তার এ কৃতিত্বের পেছনে তার বাবা মা, স্কুল কলেজের শিক্ষক, সহপাঠীসহ অনেকের অবদান রয়েছে। উল্লেখ্য যে, লরিন ও আশরাফুল দুজনে আপন চাচাতো ভাইবোন।
তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের কৃতী সন্তান রাজশাহী পুলিশের উপ—কমিশনার আবু আহম্মেদ আল মামুন। তিনি তার অভিনন্দন বার্তায় জানান, জীবনের অপর নাম সংগ্রাম। এর পেছনে রয়েছে অনেক ত্যাগ—তীতিক্ষা, আনন্দ বেদনা ও অক্লান্ত পরিশ্রম। এসব কিছুকে মেনে নিয়ে সফলতার সিঁড়ি বেয়ে আকাঙ্খার শৃঙ্গে আহরণ করে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে হবে। তবেই সফলতা আসবে। এলাকার একজন সন্তান হিসেবে আমার প্রত্যাশা তিন মেধাবী যেন তাদের লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়।