ইরাকে সংগঠিত হচ্ছে আইএস

ইরাকে সংগঠিত হচ্ছে আইএস

আর্ন্তজাতিক ডেস্কঃ ইরাকে আবারও সংগঠিত হতে শুরু করেছে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। মসুলে চূড়ান্ত পরাজয়ের চার বছর পর তারা সম্প্রতি ইরাকে সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিগুলোতে হামলা, স্থানীয় নেতাদের গুপ্তহত্যা এবং বিদ্যুৎ গ্রিড ও তেলখনিগুলোতে হামলা চালিয়ে নিজের সংগঠিত হওয়ার কথা জানান দিচ্ছে গোষ্ঠীটি। রোববার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

২০১৪ সালের জুন মাসে সিরিয়া ও ইরাক অধ্যুষিত অঞ্চলে নিজেদের খেলাফত ঘোষণা করে আইএস। তিন বছরের মাথায় মার্কিন-নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর হাতে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে আইএস খেলাফতের অবসান ঘটে। লড়াই শেষ হলেও প্রায় ১০ হাজার আইএস যোদ্ধা ইরাক ও সিরিয়ায় পালিয়ে যায়।

স্থানীয় উপজাতি নেতা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যারা সংগঠিত হচ্ছে তাদের সংখ্যাটা তুলনামুলকভাবে কম। সামরিকভাবে শক্তিশালী সরকারি বাহিনীর সাথে সরাসরি মোকাবিলা করতে না পেরে তারা আধা-যাযাবর জীবনযাপন করছে। তাদের অর্থের উৎস একেবারেই কমে আসায় তারা এখন পাহাড় ও গিরিসঙ্কটগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে। সংগঠিত আক্রমণের জন্য পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও লোকবল জোগাড়ের আগ পর্যন্ত তারা বারবার স্থান বদল করছে।

ইরাকের কিরকুকের এক উপজাতি নেতা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে আইএসের যোদ্ধাদের সংখ্যা কম হলেও তারা এখন বিভিন্ন এলাকা দখলের জন্য বিভিন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। এদের ওপর নজরদারি চালানো না হলে তারাই শিগগিরই নিজের সংগঠিত করে ফেলবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নেতা বলেন, ‘২০০৯ সালে আল-কায়েদা পরাজয়ের পর যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল আইএস এখন সেই পরিস্থিতিতে রয়েছে। তারা সংগঠিত হওয়ার জন্য আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেছে ; শক্তি অর্জন করে ফিরে আসতে তাদের হয়তো তিন বছরেরও কম সময় লাগবে।’

তিনি জানান, তথাকথিত খিলাফত প্রতিষ্ঠার আগে সরকারের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের প্রতি সমর্থন আদায় করেছিল আইএস। সেই পরিস্থিতি ফের দেখা দিয়েছে। সরকারের ওপর স্থানীয়দের আস্থা প্রায় নেই বললেই চলে। আইএস সদস্য বলে প্রমাণিত না হওয়ার আগ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার গণহারে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন করছে।