Home Blog

গোবিন্দগঞ্জে ৪০ বছর ধরে খবর ফেরি করা তছলিমের জীবনে শুধুই ‘দুসংবাদ’

0
 আলমগীর হোসেনঃ
বয়সের ভারে শরীর আর চলে না, কিন্তু অভাবের তাড়নায় থামতেও পারছেন না তিনি।
দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে এলাকার মানুষকে দেশ-বিদেশের খবরের কাগজ পৌঁছে দিচ্ছেন যে মানুষটি, সেই তছলিম উদ্দিনের (৬৬) নিজের জীবনটাই এখন যেন এক করুণ খবরের শিরোনাম।
​গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ী ইউনিয়নের সদর কলোনির বাসিন্দা তছলিম উদ্দিন। জীবনের সোনালী দিনগুলো কাটিয়েছেন পশ্চিম জনপদের মানুষের হাতে ভোরে পত্রিকা তুলে দিয়ে।
কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় মানুষ এখন ঝুঁকেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, ফলে খবরের কাগজের চাহিদা কমেছে আশঙ্কাজনকভাবে। পত্রিকা বিক্রি করে সংসার চালানো এখন তার জন্য এক অসম্ভব লড়াই।
​হকারি জীবন থেকে মুক্তি চান, কিন্তু পিছু ছাড়ছে না অভাব। তছলিম উদ্দিনের চার মেয়ে ও এক ছেলের জনক।
সন্তানদের বিয়ে দিয়েছেন। জীবনের এই অপরাহ্নে নাতি-নাতনিদের নিয়ে হেসে-খেলে দিন কাটানোর কথা থাকলেও, তাকে এখনো হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হচ্ছে।
​বয়স হয়েছে, আগের মতো দৌড়াতে পারি না। পত্রিকার ব্যবসাও আর নেই। মানুষ এখন মোবাইলে খবর পড়ে। জীবনটা শেষ করে দিতে মন চায়, কিন্তু সংসারের অভাব তো পিছু ছাড়ে না!”-আক্ষেপ করে বলছিলেন তছলিম উদ্দিন।
​শুধু বয়সের ভারই নয়, তছলিম উদ্দিন একজন হৃদরোগী (হার্টের রোগী)। অর্থের অভাবে বন্ধ রয়েছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা।
দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কপালে জোটেনি একটি ‘বয়স্ক ভাতার কার্ড’।
​ক্ষোভের সাথে তিনি বলেন, “জনপ্রতিনিধিদের কাছে অনেক ঘুরেছি, কিন্তু রহস্যজনক কারণে কেউ একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড দিল না। সবাই বলে জনপ্রতিনিধি ছাড়া নাকি এসব পাওয়া যায় না!
​যে মানুষটি চার দশক ধরে সমাজের মানুষকে প্রতিদিনের খবরের আলো যুগিয়েছেন, আজ চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও শারীরিক অসুস্থতায় তিনি নিঃসঙ্গ, অসহায়।
উপজেলা প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে আকুল আবেদন-এই প্রবীণ পত্রিকা হকারের সুচিকিৎসা এবং একটি স্থায়ী সরকারি সহায়তার (বয়স্ক ভাতা) ব্যবস্থা কি হতে পারে না?

চাঁদার লাখ লাখ টাকা যেভাবে সংগ্রহ করতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

0

ব্যবসায়ী কিংবা প্রবাসীদের মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হতো লাখ থেকে কোটি টাকা চাঁদার জন্য। এরপর বাহকের মাধ্যমে নগদে সংগ্রহ করা হতো চাঁদাবাজির সেই টাকা। চাঁদার টাকা সংগ্রহের জন্য ছিল এলাকাভেদে পৃথক ব্যক্তি। তাঁরা মূলত ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে চাঁদাবাজির সেই টাকা জমা দিতেন। তিনি এসব টাকা হুন্ডি এবং কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিতেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছে।

পুলিশ ও চাঁদাবাজির শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। গত বুধবার সকালে যশোর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ইমন পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার ইমনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে গত সোমবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা করার পর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এর আগে ১৩ জুলাই ২ কোটি টাকা চাঁদার জন্য নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এই দুটি ঘটনার পর মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ইমনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। যদিও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন ইমন।

 

চাঁদা দাবির আগে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ

পুলিশ জানায়, চাঁদা চাওয়ার আগে কোনো ব্যক্তির আয়ের উৎস, বর্তমান সম্পদ, নির্মাণাধীন ভবনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন ইমনের লোকজন। পরিবারের সদস্যদের জীবনবৃত্তান্তও সংগ্রহ করা হয়। তথ্য সংগ্রহের জন্য এলাকাভিত্তিক সোর্স রয়েছে ইমনের।

তথ্য সংগ্রহের পর চাঁদার জন্য বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করা হয় নির্ধারিত ব্যক্তিকে। কয়েক লাখ টাকা থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করা হয়। ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের কে কোথায় থাকেন, কী করেন, সব জানানো হয়। দাবি অনুযায়ী চাঁদা না দিলে গুলি করার হুমকি দেন ডেভিড ইমন।

ইমনকে চলতি মাসের শুরুতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দেওয়া এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তিনি নগরের দক্ষিণ পাহাড়তলীর বড় দিঘিরপাড় এলাকার বাসিন্দা। ইমন গ্রেপ্তার হলেও এখনো ভয়ে রয়েছেন সেই ব্যবসায়ী।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে বলেন, জুন মাসের শেষের দিকে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে ডেভিড ইমন তাঁকে ফোন করেন। তাঁর নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন ও বিভিন্ন ব্যবসার কথা বলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ইমন। ওই সময় ওই ব্যবসায়ীর ছেলেমেয়েরা কে কোথায় পড়াশোনা করেন, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে ব্যবসায়ীর কলেজপড়ুয়া বড় ছেলেকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেন।

‘তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা দল রয়েছে।’

কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ, অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম

পরে বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি নগরের অক্সিজেন এলাকায় টাকা নিয়ে যেতে বলেন বলে জানান ওই ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, ‘আমি যেতে রাজি না হওয়ায় একটি অটোরিকশায় করে দুই যুবক বড় দিঘিরপাড়ে আমার বাসার সামনে আসে। নগদ পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে তারা আবার একই গাড়িতে করে চলে যায়।’

এই ব্যবসায়ীর মতো আরও অন্তত পাঁচজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁরা সবাই নগদে বাহকের কাছে চাঁদার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে নাম প্রকাশ করে এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে তাঁরা রাজি হননি। কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ইমন জামিনে বেরিয়ে এলে তাঁদের ক্ষতি করতে পারেন। তা ছাড়া ইমনের অনেক সহযোগী এখনো বাইরে রয়েছেন।

ইউসুফকে খুঁজছে পুলিশ

পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় ইমনের লোকজন চাঁদার নগদ টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে যেতেন নগরের জিইসি মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে। সেখানে ইউসুফ নামের এক ব্যক্তিকে জমা দিতেন। পরে তিনি এসব টাকা ইমনের নির্দেশমতো হুন্ডি কিংবা ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন।

ইমনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য মিলেছে জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, ইউসুফকে ধরার চেষ্টায় রয়েছে পুলিশ। তাঁকে পেলে চাঁদাবাজির টাকা কোথায় যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে কৌশল হিসেবে নগদে চাঁদার টাকা নিতেন। এসব টাকা যাঁরা সংগ্রহ করতেন, তাঁরা সাধারণত ওই এলাকার নন। অন্য কোনো এলাকা থেকে এসে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করা হতো।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, তাদের একটি দল তথ্য সংগ্রহ করে, আরেকটি দল নগদ টাকা গ্রহণ করে, আরেকটি হামলা-ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো ঘটনায় জড়ায়। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা দল রয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, রিমান্ডে আনার পর ইমনের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ইতিমধ্যে পুলিশ তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে। চাঁদাবাজি কিংবা হামলার শিকার ভুক্তভোগী লোকজন পুলিশকে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারেন।

ক্রিকেট ছেড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে

ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। তাঁর বাবা মো. মুসা ওমানপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ইমনের। কাঞ্চননগর থেকে সাইকেলে করে ফটিকছড়ি কলেজ মাঠে এসে অনুশীলন করতেন। পরে নগরের অক্সিজেন মোড়ে খালার বাসায় থেকে নিয়মিত ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। খেলতেন চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে। অনুশীলন করতেন কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়ামে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের মাধ্যমে তাঁর দলে যুক্ত হন। সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হয়ে ওঠেন ইমন।

২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায় আলোচিত হন মোবারক হোসেন ইমন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে অন্তত ১৫টি।

পুলিশের ভাষ্য, ইমন ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেছেন—এমন তথ্য রয়েছে। অস্ত্র ব্যবহারে তিনি দক্ষ। বাকলিয়ার জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করার দায়িত্বও তাঁর ছিল। পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুজনের একজন ইমন। অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে দেশে সন্ত্রাসী দলটির নেতৃত্ব দিতেন সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ইমন ও রায়হান দলটির নেতৃত্বে আসেন।

পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছেন। মোহাম্মদ রায়হান ও ইমন বড় সাজ্জাদের হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করে আসছেন।

গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল ইমনের কাছে। এ সময় তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি টাকা নিই এটা ঠিক, তবে সব বড়লোকদের কাছ থেকে।’ সন্ত্রাসের পথ কেন বেছে নিয়েছেন—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ছোটবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল বড় ক্রিকেটার হব, নয়তো বড়লোক হব। বড়লোক হওয়ার জন্য এই পথে আছি।’

অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকার পথে নাসীরুদ্দীন ও সারজিস

0

পুলিশের তৎপরতায় অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বেরিয়ে হবিগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তাঁদের গাড়িবহরে হামলা হয়।

ঘটনার পর তাঁরা হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

 

হামলার জন্য ছাত্রদল ও বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছে এনসিপি। তবে ছাত্রদলের দাবি, এনসিপি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের জেরেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

হামলার মুখে সারজিস শহরের সোনালী ব্যাংকের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা তিনি অবরুদ্ধ ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও হামলার মুখে দ্রুত সার্কিট হাউসে আশ্রয় নেন। পরে সেখান থেকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

 

এদিকে হামলার খবর পেয়ে প্রতিরোধ করতে গেলে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় শহরের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

 

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ টাউন হলের সামনে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি ও সমাবেশ হয়। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিসসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীনের গাড়িবহর সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা দিলে স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। চালক দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়ে সার্কিট হাউসে যান।

 

কিছুক্ষণ পর পেছনে থাকা সারজিসের গাড়িকেও ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে তাঁর গাড়ি শহরের সোনালী ব্যাংক ভবনে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ব্যাংক ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর রাত আটটার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। সেখান থেকে রাত ১০টায় পুলিশ প্রটোকলে তিনি হবিগঞ্জ শহর ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

এনসিপির অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে এনসিপির মিডিয়া টিম বহনকারী একটি মাইক্রোবাস সার্কিট হাউসে প্রবেশ করলে হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে গাড়ি ভাঙচুর করে এবং সাংবাদিকদের মুঠোফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার পর ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একদল নেতা-কর্মী হকিস্টিক, রামদা, চেইনসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ ও র‍্যাব উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যকর কোনো ভূমিকা নেয়নি। হামলায় তাঁদের মিডিয়া টিমের সদস্য, চালক ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা গুরুতর আহত হয়েছেন। কারও হাত-পা ভেঙে গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া পৃথক এক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতেই এ হামলা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, সার্কিট হাউসের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে মাইক্রোবাস ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক সহিংসতার উদ্বেগজনক নজির।

মাই টিভির সাদুল্লাপুর প্রতিনিধি শাহীন মিয়ার বিরুদ্ধে কৃষকের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগ

0

মাই টিভির সাদুল্লাপুর প্রতিনিধি শাহীন মিয়ার

বিরুদ্ধে কৃষকের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগ

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার মাই টিভির প্রতিনিধি শাহীন মিয়ার বিরুদ্ধে শহিদুল ইসলাম নামে এক অসহায় কৃষকের সাথে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।কথিত সাংবাদিক শাহীন মিয়া সাদুল্লাপুর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) থেকে দু’টি সেচ পাম্প নিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৃষক শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে নগদ ৮ হাজার ৩০০ টাকা, দুটি চেকের পাতা, জমির মূল দলিল নেয়। পরে ওই চেকের একটি পাতায় ৫ লাখ টাকা বসিয়ে মিথ্যা চেক ডিজঅনার মামলা করে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার বিকালে গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী কৃষক শহিদুল ইসলাম এসব অভিযোগ করে। শহিদুল ইসলাম সাদুল্লাপুর উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত. লাল মিয়ার ছেলে।

অভিযুক্ত শাহীন মিয়া উপজেলার জয়েনপুর (তুলসীঘাট রোড) গ্রামের মৃত জসিজল হকের ছেলে।মাই টিভি ছাড়াও তিনি এলাকায় নিজেকে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসাবেও পরিচয় দেন।

সংবাদ সম্মেলনে কৃষক শহিদুল ইসলামের জানান, তিনি লেখাপড়া না জানা একজন নিরক্ষর মানুষ। তিনি ৫/৬ বছর আগে সাদুল্লাপুর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিকট ২টি সেচ পাম্পের জন্য আবেদন করেন। সেই সময় তাঁর ফুফাতো ভাই আনিছার রহমানের পূর্ব পরিচিত কথিত সাংবাদিক শাহীন মিয়ার সঙ্গে কৃষক শহিদুলের পরিচয় হয়। শাহীন মিয়া বিএমডিএ থেকে সেচ পাম্প দ্রুত নিয়ে দেবার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ৮ হাজার তিনশত টাকা নেয়। কিছুদিন পর শাহীন মিয়া তাকে জানান সেচ পাম্প নিতে হলে অফিসে দুটি ফাকা চেকের পাতা অফিসে জমা দিতে হবে। কিন্তু শহিদুল ইসলামের কোন ব্যাংক একাউন্ট না থাকায় শাহীন তাকে অগ্রণী ব্যাংকের সাদুল্লাপুর শাখায় একটি একাউন্ট খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

কৃষক শহিদুল ইসলামের ভাষ্য, ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর শাহীন মিয়া তাকে অগ্রণী ব্যাংকের সাদুল্লাপুর শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব খুলে দেন। হিসাব খোলার পর ব্যাংক থেকে একটি চেকবই দেওয়া হলে কথিত সাংবাদিক শাহীন প্রথম পাতা বাদ দিয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাতার দুটি চেক ছিঁড়ে নেন এবং চেকে দু’টিতে তাঁর টিপসইও নেওয়া হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সময় শাহীন মিয়া তার ২৬ শতক জমির মূল দলিল, একটি জমির পর্চা এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও নেন।

তিনি বলেন, এরপর দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাত, টালবাহানা ও ভয়ভীতি দেখায়ে তাঁর কাছে শাহীন টাকা-পয়সা দাবি করেন। অতিষ্ঠ হয়ে এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে তিনি ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধা জজ আদালতে প্রতারণার দায়ের করেন।

তার অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর শাহীন মিয়া তার কাছ থেকে নেওয়া চেকের একটি পাতায় ৫ লাখ টাকা লিখে উল্টো সেই টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শাহীন তার বিরুদ্ধে আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা দায়ের করে।

তিনি বলেন, “আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নিরীহ মানুষ এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন।”

সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলামের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার প্রতিবেশী লিটন মিয়া। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, কথিত সাংবাদিক শাহীন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। তাঁর দাবি, এক সময় শাহীন সাদুল্লাপুর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে ঘোরাফেরা করতেন। সম্প্রতি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শাহীন মিয়া মোবাইল ফোনে জানান, তার নিকট থেকে তিনি টাকা পান। পাওনা টাকা দিতে তালবাহনা করায় তিনি তার বিরুদ্ধে আদালতে চেক ডিজঅনারের মামলা দায়ের করেন।