শ্যাওলায় ঢেকে গেছে ‘বঙ্গবন্ধু হল’ লেখা

শ্যাওলায় ঢেকে গেছে ‘বঙ্গবন্ধু হল’ লেখা

শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান জানিয়ে নির্মিত বঙ্গবন্ধু হলেই যেন অযত্ন অবহেলার শেষ নেই। যার নামে নামকরণ সেই বঙ্গবন্ধু লেখাটিই মুছে গেছে। তাও সময়টা আবার জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীর। শ্যাওলা’র আস্তরণে ঢেকে গেছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের উপাধি ‘বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘হল’ শব্দটিও। 
সবাই যখন বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান-শ্রদ্ধা জানিয়ে তার জন্মশতবার্ষিকীতে নানা আয়োজনে ব্যস্ত তখন এমন চিত্র বিস্মিত করেছে গাইবান্ধার সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মীদের এমনকি আহত হয়েছেন রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। বিষয়টি জানার পর নিন্দা উচ্চারণের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর প্রতি অবহেলা শুধু নয়, অবমাননাও বলছেন কেউ কেউ।
সভা-সেমিনারসহ নানা কর্মসূচি আয়োজনের জন্য ২০১১ সালে গাইবান্ধা-নাকাইহাট সড়কের পশ্চিমে জেলা পরিষদ নিজস্ব ক্যাম্পাসে ১ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করে জেলার সবচেয়ে বড় অডিটোরিয়াম বঙ্গবন্ধু হল। ২০১৪ সালে হলটিতে অস্থায়ী কার্যালয় করে র‌্যাব-১৩। 
বঙ্গবন্ধুর নামে হলটি নির্মাণের পর জেলা পরিষদের অযত্ন-অবহেলার জন্যই এই চিত্র বলছেন সচেতন মহল। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসিফ সরকার আক্ষেপ করে বলেন, জেলা পরিষদের মূল ভবনের পাশেই হলটি নির্মিত। অথচ হলটির প্রতি পরিষদের চেয়ারম্যান কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোন নজরই নেই। 
জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আহসান হাবীব রাজিব বলেন, জেলা পরিষদ থেকে উন্নয়নের নামে লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। অথচ পরিষদের পাশেই বঙ্গবন্ধু হলে রং করা কিংবা ‘বঙ্গবন্ধু হল’ শব্দটি লেখার জন্য তারা অর্থ বরাদ্দ করতে পারে না। এটা সত্যিই দুঃখ ও লজ্জাজনক। 
সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা এমন দৃশ্য জানার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এটি বঙ্গবন্ধুর প্রতি অবহেলা দাবি করে তিনি দ্রুত তার নামটি স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।
এ ব্যাপারে বাম নেতারাও বিস্ময় প্রকাশ করেন। সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ বলেন, জেলা পরিষদের মতো একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে নির্মিত হলে বঙ্গবন্ধুর নাম যখন অস্পষ্ট থাকে সেটি সবার জন্যই কষ্টদায়ক। জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন এতদিনেও বিষয়টি লক্ষ করেনি তা অবাক করার মতো। 
এমন চিত্র জানার পর গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর সাবু বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর শুরুতেই হলটি চাকচিক্য করে ‘বঙ্গবন্ধু হল’ লেখাটি দৃশ্যমান করা উচিত ছিল। কিন্তু যার নামে হল সেই নামটি অদৃশ্য হয়ে যাবে তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
এ ব্যাপারে কথা বলতে জেলা পরিষদে গিয়ে চেয়ারম্যান আতাউর রহমানকে পাওয়া যায়নি। বুধবার বিকেলে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, হলটি ভাড়া দেয়া হলেও পরিচর্যার দায়িত্ব অবশ্যই জেলা পরিষদের। ‘বঙ্গবন্ধু হল’ লেখাটি শ্যাওলার আস্তরণে ঢাকা পড়েছে, তিনি এতদিন খেয়াল করেননি। কেউ তার নলেজেও দেয়নি। এখন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।