মফস্বলে আশার বাতি জ্বালছে গাইবান্ধা ট্যালেন্টহান্ট ক্রিকেট একাডেমী

মফস্বলে আশার বাতি জ্বালছে গাইবান্ধা ট্যালেন্টহান্ট ক্রিকেট একাডেমী

আরিফুল ইসলাম বাবু:
গাইবান্ধা জেলার বাইরে বিভিন্ন এলাকার মানুষের মুখে যখন শুনি,আপনাদের গাইবান্ধার সাংস্কৃতিক এবং ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসটা বেশ সমৃদ্ধ ছিল। সমৃদ্ধ শুনে একদিকে যেমন গর্বে বুকটা ফুলে যায়,মনের ভিতরটায় নির্মল আনন্দের বাতাস বয়ে যায়। তেমনি, ছিল শব্দটায় মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। সত্যিই তো সমৃদ্ধিটা ইতিহাস হয়ে আছে। কিন্তু ইতিহাসের সেইধারাবাহিকতা আমরা ধরে রাখতে অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছি। ফলে অতীতের অহংকার,গর্ব নিয়েই আমাদের তৃপ্ত থাকতে হয়। কারন দীর্ঘ সময় দুটো অঙ্গনেই সেই উজ্জ্বলতার দেখা তেমন করে মিলছেনা। তবে আশার কথা যে, সম্প্রতি আবারো সাংস্কৃতিক এবং ক্রীড়াঙ্গনে চোখে পড়বার মতন তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিভিন্ন দিবসের বাইরেও সাংস্কৃতিক মঞ্চগুলোতে আলো পড়তে শুরু করেছে। একইভাবে ক্রীড়াঙ্গনেও গতি অনেকটা ফিরছে। এখন গাইবান্ধা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন খেলাধুলোয় গ্যালারীতে দর্শকও চোখে পড়ছে। এছাড়া স্টেডিয়ামে বিকেলের দৃশ্য মনে আবারও আশার সঞ্চার সৃষ্টি করেছে। কিশোর তরুনদের পদ চারনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে গাইবান্ধা শাহ্ আব্দুল হামিদ স্টেডিয়াম। এখানে বিশাল একটি ভূমিকা রয়েছে গাইবান্ধা ট্যালেন্টহান্ট ক্রিকেট একাডেমীর।


২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমি ২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত একাডেমি কাপ আয়োজন করেছে। যেখানে বিভিন্ন জেলার একাডেমি দল অংশ নেয়। গাইবান্ধা ট্যালেন্টহান্ট ক্রিকেট একাডেমীর খেলোয়াড়েরা ২০১৮ সালে ঢাকা লীগ এ ইস্কাটন সবুজ সংঘের হয়ে খেলায় অংশ নিয়ে সাফল্যের ছাপ রেখেছে । ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমির উল্লেখযোগ্য যে উদ্যোগটি। সেটি হল ২০১৯ সালের অক্টোবর ও ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারীতে নেপাল সফর করে এই একাডেমী । অপরদিকে তাদের আমন্তনে নেপাল এর নেক্সাস ক্রিকেট একাডেমি দল দ্বি- দেশিও সিরিজ এ অংশগ্রহণ করেছে। গাইবান্ধা ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমি রংপুর জেলার ক্লেমন ক্রিকেট লিগ(২০১৯) এবং দিনাজপুর জেলার শেখ রাসেল স্মৃতি ক্রিকেট লিগ (২০১৮) তেও অংশগ্রহণ করে। এছাড়া ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমি প্রতি বছর স্থানীয় ক্রিকেট লীগগুলোতেও অংশগ্রহণ করে আসছে। শুরুতে একাডেমীর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স চোখে পড়ার মতন না হলেও , বর্তমান এই একাডেমির ছাত্র-ছাত্রীরা যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ অনুর্ধ-১৯ নারী ক্রিকেট দলে ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমির নারী ক্রিকেটার মর্জিনা মিম সুযোগ পেয়েছে। গত বছর বিকেএসপি-তে সুযোগ পেয়েছে হাসিবুল হাসান শান্ত । 

গাইবান্ধা ট্যালেন্ট হান্ট একাডেমীর যাত্রা শুরু হয় মুলত ক্রিকেটার আসাদুল হাবিব সুজনের হাত ধরে। সুজন ১৮ বছর ঢাকা লীগ খেলার পর গাইবান্ধায় ফিরে এসে ক্রিকেট নিয়ে কিছু একটা করবার চিন্তা কনে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে খেলার মাঠে ফেরাবার ভাবনাও কাজ করতে থাকে। তিনি ভাবেন, ক্রিকেটে যে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতা তিনি অর্জন করেছেন তা যদি নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মাঝে ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা করা যায়। তাহলে গাইবান্ধার ক্রিকেটকে নিশ্চই একটা অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। সেই ভাবনা থেকে বন্ধু পলিন খান ,সারফারাজ খান টিটু ,মো. শহিদুল ইসলাম রনি ,তপন মালাকার ও মাহফুজুর রহমান মোনা মিলে বেশ কয়েক দফা আলোচনার পর ২০১৫ সালের ১১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠা করেন ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমী। হাটিহাটি পা পা করে এই একাডেমীতে এখন একশ জন শির্ক্ষাথী ক্রিকেট প্রশিক্ষনে অংশ নিচ্ছে। যাদের মাঝে ২৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য আবাসিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এই ক্রিকেট শিক্ষার্থীদের গাইবান্ধা স্টেডিয়ামে নিয়মিত প্রশিক্ষন দেয়া হয়। 
তবে গাইবান্ধার মতন জেলায় এ ধরনের একাডেমী পরিচালিত করা বেশ কষ্টসাধ্য বলে জানান,আসাদুল হাবীব সুজন।একাডেমী পরিচালনার জন্য গাইবান্ধার ক্রীড়াপ্রেমীদের এগিয়ে আসবার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, একাডেমী পরিচালিত করতে গিয়ে অনেক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তবে এত কওে বেশ কিছু অভিজ্ঞতাও অর্জন হয়েছে। ক্রিকেট খেলা যে একটা পেশাও হতে পাওে এই বিষয়টি বোঝাতেও আমাদের অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ অনেকেকে বুঝিয়ে এখানে যুক্ত করতে হয়। এর জন্য আমরা বিভিন্ন প্রতিভা অন্বেষন কর্মসূচি হাতে নেই । তবে আমরা একদিন সফলতা অর্জন করবই, এই মানসিক শক্তিই আমাদের সব থেকে বড় অনুপ্রেরনা বলে জানান তিনি। ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমির প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে গাইবান্ধার ক্রিকেটকে একটি মজবুত অবকাঠামোর উপর দাড় করানো। এই লক্ষ্যে আমরা অবকাঠামো উন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের মানোন্নয়নের কাজ করে যাচ্ছি।
ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমির উপদেষ্টাবৃন্দ, কার্য নির্বাহী পরিষদের সদস্যদের অনুদান ও প্রশিক্ষণরত ছাত্র ছাত্রীদের মাসিক বেতনের আয় থেকে একাডেমীর সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমি বিশ্বাস করে প্রশিক্ষণার্থীদের ক্রিকেট সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে দিতে পারলে ক্রিকেটাররা সর্বোচ্চ স্থানে ক্রিকেট খেলতে পারবে এমন বিশ্বাস একাডেমী সংশ্লিষ্টদের। সর্বোপরি নতুন প্রজন্মকে বিপথগামীতা থেকে মুক্ত রাখতে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলার মাঠে মনোযোগী করে তুলতে সচেষ্ট হতে হবে সকলকেই। গাইবান্ধা ট্যালেন্ট হান্ট একাডেমী যে চারা রোপন করেছে, তা ফুলে ফলে ভরিয়ে তুলতে গাইবান্ধার ক্রীড়াপ্রেমীরাসহ সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে।