দুর্গাপূজোয় আনন্দ নেই গাইবান্ধার মৃৎশিল্পীদের ঘরে

দুর্গাপূজোয় আনন্দ নেই গাইবান্ধার মৃৎশিল্পীদের ঘরে

আসন্ন দূর্গাপূজা উপলক্ষে গাইবান্ধার মন্ডপগুলোতে দেবীকে সাজানোর কাজ প্রায় শেষ। কিভাবে পুজা অর্চনা হবে তা নিয়ে ব্যস্ত পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। মন্দির আর পূজোমন্ডপগুলোতে দূর্গো পূজোর আবহ দেখা গেলেও চিত্রটা বরাবরের মতন নয়। এবারে নেই ঝলমলে রবকমারী আলোকসজ্জা, থাকবেনা আরতি। আর থাকবেনা সেই চিরচেনা ঐতিহ্যবহনকারী মেলা। যে মেলা ঘিরে বাঁজত বিভিন্ন শব্দের বাঁশি,পথে পথে শিশুদের হাতে টমটম গাড়ি,বাহারী রঙের বেলুন। মাটির তৈরী হাড়ি-পাতিল,খেলনাসহ নানারকম তৈজসপত্র। ফলে এবারে  দুর্গোৎসব না বলে ,বলা হচ্ছে দূর্গাপূজা, মানবতার পূজা। সনাতন ধর্মের মানুষ বলছেন পূজা অর্চনায় পৃথিবী থেকে করোনা দুর করবার জন্য মা’ দূর্গার কাছে তারা প্রার্থনা জানাবেন ।
সব কিছু মিলিয়ে বৈশ্বিক করোনা দুর্যোগে এবার দূর্গাপুজো সম্পুর্ন ভিন্নভাবে পালিত হচ্ছে। মৃৎপল্লীগুলোতে আনন্দের বদলে অনেকটা বিষাদ ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িঘরের আঙিনাসহ চারপাশে জমানো মাটি, পুনগুলোতে ( যাতে মাটির জিনীষপত্র আগুনে পোড়ানো হয় ) নেই আগুন । সব উপকরন ছড়ানো ছেটানো, মানুষগুলোর মুখে কষ্টের ছাপ স্পষ্ট। উৎসব পালনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তারা। তবে মেলা না হওয়ার সিদ্ধান্তে মাটির জিনিীষপত্র তৈরী বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তারা। 
গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহাপাড়া ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে প্রবীন মৃৎশিল্পী বিজন কুমার পাল জানালেন, দুর্গাপুজোর এ সময়টায় তারা একদমই বসে থাকবার সময় পান না। তবে এবারের পূজোয় মেলা না থাকায় অলস সময় কাটছে।  মৃৎশিল্পীদের পুরো বছরের আয় উপার্জনের অন্যতম সময় এই দুর্গোপূজো। দুর্গোপূজোকে কেন্দ্র করে মন্ডব এলাকা ছাড়াও শহর,গ্রামের বিভিন্ন স্থানে মেলা বসে থাকে। আর মেলার দোকানপাটগুলোতে  ভরে থাকে মৃৎশিল্পীদের হাতে মাটির তৈরী নানা রকমের খেলনা ও  তৈজসপত্রে। করোনার কারনে সেই মেলাই এবার বসছেনা। ফলে উপার্জনের পথ বন্ধ। 
মৃৎশিল্পী বিজন কুমার পালের মতন দশা  এলাকার সকল মৃৎপল্লীতেই ।  আয় উপার্জন না থাকায় সন্তানদের নতুন জামাকাপড়ও কিনে দিয়ে মুখে হাসি ফোটাতে পারেননি না তারা। তাই এবারের দুর্গোপূজো নিরানন্দ ও চরম দুর্দশায় কাটছে মৃৎশিল্পীদের পরিবারে। 
গাইবান্ধা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, রনজিৎ বকসী সুর্য বলেন, বৈশ্বিক করোনা সংকটে এবারে আমরা মানবতার পূজো পালন করছি। মৃৎশিল্পীদের বিষয়টি আমরা ভেবেছি। তাদেরকে আর্থিক সহায়তার কোন ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।  

গাইবান্ধা জেলায় এবারে দুর্গাপূজা হচ্ছে ৫৬২ মন্দির ও মন্ডপে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৮৩টি, সাদুল্যাপুরে ১০৩টি, সুন্দরগঞ্জে ১৩০টি, পলাশবাড়িতে ৫৯টি, গোবিন্দগঞ্জে ১১৬টি, সাঘাটায় ৫৬টি এবং ফুলছড়ি উপজেলায় ১৫টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 
গাইবান্ধায় সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ন পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপুজা উদযাপন এবং আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটি বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ন সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। এছাড়া জেলার সকল পূজা উদযাপন কমিটি নিয়মিত বৈঠক করছেন,মন্ডপগুলো পরিদর্শন করছেন।  জেলা প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে মন্ডপ সংশ্লিষ্টদের সচেতনতায় জানানো হয়েছে যে, কোভিড-১৯ এর পরিপ্রেক্ষিতে এবার সীমিত পর্যায়ের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে হবে। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে যারা মৃত্যুবরণ করেছে তাদের আত্মার শান্তি এবং অসুস্থদের রোগ মুক্তি কামনা করে জেলার সকল পুজা মন্ডপে একযোগে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। সকল পূজা মন্ডপে বিশেষ আলোকসজ্জা, মাইক, সাউন্ড সিস্টেমে গান-বাজনা বন্ধ এবং আরতি প্রতিযোগিতা বন্ধ রাখতে হবে। দর্শনার্থীদের অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং প্রতিটি পূজা মন্ডপে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। দশমীর দিন সন্ধ্যা ৬টার আগেই কোন শোভাযাত্রা ছাড়াই প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হবে।